রাকসুর উদ্যোগে মেন্টাল হেলথ কেয়ার ক্যাম্পেইন 

প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০২:১৪:১৬ || পরিবর্তিত: ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০২:১৪:১৬

রাকসুর উদ্যোগে মেন্টাল হেলথ কেয়ার ক্যাম্পেইন 

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মেন্টাল হেলথ ক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত Mind Care Campaign ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিন  শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রহমাতুন্নেসা হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিদ্যমান কুসংস্কার ভাঙা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে একটি সুস্থ, মানবিক ও সচেতন ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব। তিনি আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীনতাকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা যেমন শারীরিক অসুস্থতায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হই, ঠিক তেমনি মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রেও একই দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।” 

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, “সবার আগে আমাদের কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার ভয় ভেঙে খোলামেলা আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”

পরিবারের কোনো সদস্য বিষণ্ণতায় ভুগলে তাকে অবহেলা না করে সহানুভূতি ও মমতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, “সাহায্য চাওয়া কোনো ব্যর্থতা নয়; বরং নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম সাহসী পদক্ষেপ।”

রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফসা বলেন, আমরা সাধারণত শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন থাকি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ততটা গুরুত্ব দিই না। তিনি বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হওয়ার ওপর জোর দেন। মানসিক সমস্যার অবহেলা থেকে ডিপ্রেশন সৃষ্টি হয়ে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিণতি ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে কেউই মানসিকভাবে অসুস্থ হতে পারি। তাই নিজের মানসিক সমস্যার কথা নিঃসংকোচে অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মেন্টাল হেলথ ক্লাব রাবির সভাপতি মুস্তাকিম রহমান বলেন, “শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমরা যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ততটা নই। বরং মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষদের অনেক সময় হাসাহাসির শিকার হতে হয়।” 

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো—ক্যাম্পাসে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা বিনা দ্বিধায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

এ সম্পর্কিত খবর

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হলেও হবে না চুক্তি

এই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু নয়: প্রধানমন্ত্রী

নতুন কারিকুলামে কমবে কোচিং নির্ভরতা: শিক্ষামন্ত্রী

দক্ষ ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

সার্বভৌম দেশের অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত: পুতিন

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ আজ

বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আনসার বাহিনীকে ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্মে’ রূপান্তর করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ